১০ লাখ টাকা লোন দিবে প্রবাসী কল্যান ব্যাংক

১০ লাখ টাকা লোন দিবে প্রবাসী কল্যান ব্যাংক

প্রশাসনিক তথ্য

১০ লাখ টাকা লোন দিবে প্রবাসী কল্যান ব্যাংক । “বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার লোন” – বিস্তারিত
বাংলাদেশি কোন নাগরিক কাজের উদ্দেশ্যে বিশ্বের যে কোন দেশে যাওয়ার জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কর্তৃক Emigration Clearance Card নিয়ে বিদেশে কর্মরত থাকলে, সে ক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ঐ ব্যক্তি বা তার উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য (যেমন: পিতা-মাতা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন) কে সহজ শর্তে জামানতবিহীন ও জামানতসহ ঋণ প্রদান করবে। সেই ঋণের নাম দেওয়া হয়েছে ‘‘বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ’’। প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনা’র একান্ত চিন্তা-ধারনা থেকে ২০১১ খ্রি: সালে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রকার ঋণ প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রবাসীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা ও কিছু উপজেলা শহরে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা আছে।

কারা এই ঋণ পাবেন?

যে সকল প্রবাসী ন্যূনতম ১ বছর যাবৎ বিদেশে কর্মরত আছেন এবং তাঁর আয়ের উপর নির্ভশীল পরিবারের সদস্য যেমন: তার পিতা-মাতা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন এর মধ্যে যে কোন সদস্য কৃষি এবং অ-কৃষি প্রকল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, কেবল মাত্র তিনি এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

কারা এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন না?

  • অন্য কোন সংস্থা, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ খেলাপি ব্যক্তি।
  • উন্মাদ, দেউলিয়া, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি, রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামী।
  • অভিবাসী ব্যক্তি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক হতে ঋণ খেলাপী হলে তার পরিবারের কোন সদস্য বা নিকটতম আত্মীয় এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবে না।

ঋণের পরিমাণঃ

প্রদানকৃত ঋণের পরিমান সর্বোচ্চ ১০,০০,০০০/- (দশ) লক্ষ টাকা।

ঋণের সুদঃ

বর্তমান সুদের হার ৯% চক্রবৃদ্ধি হারে চলবে। সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত সুদের হার অত্র ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

ঋণ পরিশোধের মেয়াদঃ

ঋণের প্রকল্প এবং ব্যবসার প্রকৃতি বা ধরণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৩ টি মাসিক কিস্তিতে ২ বছরে পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্প এবং ব্যবসার প্রকৃতি বা ধরণ অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের বিবরণ নিচে দেওয়া লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিন।

download Now

ঋণের খাতসমূহঃ

টি খাতে ব্যবহারের জন্য এই ঋণ প্রদান করা হবে, কৃষি খাত এবং অকৃষি খাত। নিচে এ ২ টি খাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ঋণের ধরণঃ

২ ধরণের প্রকল্পের জন্য এই ঋণ প্রদান করা হবে, প্রকল্প ঋণ (Project loan) ও চলতি পুঁজি বা নগদ ঋণ (Working capital)

ঋণ ও ইকুইটি বা মার্জিন অনুপাতঃ

  • প্রকল্প ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ ইক্যুইটি (ব্যাংক: গ্রাহক) অনুপাত হবে ৬০:৪০ ।
  • ক্যাশ ক্রেডিট বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটেল ঋণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম মার্জিন ৫০%।

ঋণের জামানতঃ

  • সর্বোচ্চ ২,০০,০০০ (দুই) লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ প্রদান করা হবে।
  • ২,০০,০০০ (দুই) লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে ঋণ মঞ্জুরের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুযায়ী ন্যূনতম ১.৫ গুণ এর সমপরিমাণ জামানত দিতে হবে।
  • জামানত হিসাবে ঋণ গ্রহীতা বা জামিনদারের মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি রেজিস্ট্রি মর্টগেজ মূলে ব্যাংকের অনুকূলে দায়বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি আদালতের হস্তক্ষেপ ব্যতিরিকে বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রয়ের নিমিত্তে রেজির্স্টাড আমমোক্তারনামা দিতে হবে।
  • যে কোন পরিমাণ ঋণের ক্ষেত্রে প্রকল্প, ব্যবসার মালামাল বা অস্থাবর ও অন্যান্য সম্পদ প্রাথমিক জামানত হিসেবে হাইপোথিকেশন দলিলমূলে ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ থাকবে।

ঋণ প্রাপ্তির যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ

  • আবেদনকারীকে ন্যূনতম ১৮ বৎসর থেকে ৫৫ বৎসর বয়সী বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে এবং আবেদনকারীকে ব্যাংকের শাখার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • অভিবাসী পরিবারের যে সদস্য বিদেশে আছেন তার প্রমাণপত্র সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র যেমন: পাসপোর্ট, পাসপোর্টের বর্হিঃগমন সীলযুক্ত পাতা, ভিসা ও স্মার্টকার্ড এর সত্যায়িত ফটেকপি জমা দিতে হবে।
  • ঋণ প্রদানের জন্য অভিবাসী ব্যক্তির অনুরোধপত্র এবং তার রেমিট্যান্স প্রেরণের বিবরণী জমা দিতে হবে।

ঋণ আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ

  • আবেদনকারীর আবেদনসহ পারিবারিক তথ্য সম্বলিত জীবন বৃত্তান্ত (নির্ধারিত ফরমেটে)।
  • আবেদনকারীর সদ্য তোলা ০৩ (তিন) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সম্বলিত পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্র।
  • আবেদনকারী অন্য কোন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে থাকলে তার বিবরণপত্র।
  • প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট এর সত্যায়িত ফটোকপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  • আবেদনকারীর নামে যে কোন ব্যাংক হিসাবের স্বাক্ষরিত ০৩ (তিন) টি চেকের পাতা।

জামিনদার বা গ্যারান্টারঃ

ঋন পরিশোধে সক্ষম ন্যুনতম ০৩ জন ব্যক্তি জামিনদার (এক জন সংশ্লিষ্ট প্রবাসী) হতে হবে। যিনি ঋণ আবেদনকারীর পিতা বা মাতা বা স্ত্রী বা ভাই বা বোন বা নিকটতম আত্মীয়-স্বজন বা আর্থিকভাবে সচ্ছল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি জামিনদার বা গ্যারান্টার হতে পারবেন। একজন ব্যক্তি শুধুমাত্র একটি ঋণের জামিনদার বা গ্যারান্টার হতে পারবেন। এবং জামিনদার অবশ্যই শাখা অধিক্ষেত্রের বাসিন্দা হতে হবে। ১০ লাখ টাকা লোন দিবে প্রবাসী কল্যান ব্যাংক ।

জামিনদার বা গ্যারান্টারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ

  • জামিনদারের সদ্য তোলা ০২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সম্বলিত পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্র।
  • জামিনদারের যে কোন ব্যাংক হিসাবের স্বাক্ষরিত ০৩ টি চেকের পাতা।

প্রকল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ

  • প্রকল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের শাখা অধিক্ষেত্রের মধ্যে হতে হবে।
  • প্রকল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে।
  • প্রকল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়া স্থানে হলে Latter of Disclaimer এবং নিজস্ব স্থানে হলে মালিকানার প্রমাণপত্র দিতে হবে।
  • প্রকল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাসহ বিস্তারিত বিবরণ (এক বছরের আয়-ব্যয় বিবরণী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  • ব্যক্তিগত বা প্রকল্পের নামে কোন সংস্থা বা এনজিও বা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে গৃহীত ঋণের ঘোষণাপত্র।

ঋণের খাতসমূহের বিবরণঃ

ক) কৃষি খাতঃ

১। মৎস্য সম্পদঃ কার্প জাতীয়-রুই, কাতলা, মৃগেল, পাংগাস, বোয়াল, মাগুর, শিং, তেলাপিয়া, শোল, চিংড়ি ও অন্যান্য চাষজাতীয় মাছ।
২। প্রাণী সম্পদঃ পোল্ট্রি ফার্ম, মুরগীর (লেয়ার, ব্রয়লার, কক) খামার, হাঁস বা রাজহাঁস খামার, পোল্ট্রি ফার্ম (অন্যান্য)
গবাদীপশু মোটাতাজাকরণ বা পালন প্রকল্প, গরু বা ছাগল বা ভেড়া বা মহিষ মোটাতাজাকরণ বা পালন।

খ. অকৃষি খাত:

১। কুটির শিল্প বা ক্ষুদ্র শিল্প প্রকল্পঃ মৃৎ শিল্প, ব্লক-বাটিক প্রিন্টিং, তাঁত বা বুনন শিল্প ও নকশী কাঁথা তৈরী, কাঠের বা স্টীলের আসবাবপত্র তৈরী এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ইত্যাদি।

২। বাণিজ্যিক খাতঃ মুদি বা মনোহরী, ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর, কাপড়ের ব্যবসা বা তৈরী পোষাকের ব্যবসা, প্রাণী খাদ্য বা মৎস্য খাদ্য ব্যবসা, ধান বা চাল বা অন্যান্য কৃষিপণ্য ব্যবসা, ধান, গম, মসলা ও অন্যান্য কৃষি পণ্য ভাঙ্গার মেশিন ব্যবসা, সার বা বীজ বকীটনাশক ব্যবসা, পার্টসের ব্যবসা, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ব্যবসা, ঔষধ ব্যবসা, জুতার ব্যবসা, ক্রোকারি সামগ্রীর ব্যবসা, হার্ডওয়ার ব্যবসা, আসবাবপত্রের ব্যবসা, কম্পিউটার দোকান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বা গাড়ী মেরামত ওয়ার্কশপ, বাণিজ্যিক খাত (অন্যান্য)।

বি: দ্র: নাগরিকের সুবিধার জন্য সরকার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণের সুদ, ঋণ বিতরণ ও আদায় নীতিমালা সময় সময় পরির্বতিত হয়। তাই ঋণ উত্তোলন ও পরিশোধ সংক্রান্ত আরো বিস্তারিত তথ্যের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করতে হবে। আমি এখানে কেবলমাত্র “বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার লোন” সর্ম্পকে প্রাথমিক একটি ধারনা দেবার চেষ্ট করলাম।

এ সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্ট এর মাধ্যমে আমাদেরকে জানান। ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন আর এ সম্পর্কে আরও কিছু জানতে চাইলে আমাদের কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *