গ্রিন কার্ড

সৌদি গ্রিন কার্ড? কী যোগ্যতা ও দক্ষতা লাগবে? এতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কি লাভ?

প্রশাসনিক তথ্য

সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিল সম্প্রতি প্রবাসীদের অবস্থানের অনুমতি সংক্রান্ত একটি বিল পাস করেছে। এর মাধ্যমে স্থায়ী বা অস্থায়ী ভাবে প্রবাসীদের সৌদি আরবে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে।
সৌদি গেজেট অনুসারে, এর মাধ্যমে যারা স্থায়ী বা অস্থায়ী অবস্থানের অনুমতি বা সৌদি গ্রিন কার্ড পাবেন তারা কিছু বিশেষ সুবিধা পাবেন।

গ্রিন কার্ড কি?

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপের মতো এবার স্থায়ী বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ড দেওয়া শুরু করেছে সৌদি আরব। সৌদি সরকারের “প্রিভিলেজড আকামা” নামে পরিচিত এই প্রকল্পটি সৌদি গ্রিন কার্ড হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
তিন বছর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রথম গ্রিন কার্ড এর কথা উল্লেখ করেছিলেন। এই আইন কার্যকর হলে, দেশের বর্তমান আমলাতান্ত্রিক এবং জটিল অভিবাসন ব্যবস্থা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা?

এই তেল সমৃদ্ধ মধ্য প্রাচ্যের দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে প্রবাসীদের যে যোগ্যতা লাগবে,
১. অবশ্যই একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে,
২. আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হতে হবে, ও
৩. ন্যূনতম ২১ বছর বয়স হতে হবে।

গ্রিন-কার্ড এর সুবিধা?

সৌদি আরবে অবস্থানের জন্য প্রবাসীদের সাধারণত স্থানীয় একজন পৃষ্ঠপোষক প্রয়োজন হয়। তাছাড়া প্রবাসীরা সেখানে অবস্থানের অনুমতি পান না। এই গ্রিন কার্ড এর মাধ্যমে প্রবাসীরা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন এবং তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা পাবেন।

কি থাকবে এই সৌদি গ্রিন কার্ড আইনে?

১. প্রস্তাবিত আইনের অধীনে কোন প্রবাসী নির্দিষ্ট ফি প্রদানের মাধ্যমে সৌদি আরবে বসবাস করতে, কাজ করতে, ব্যবসা করতে এবং তাদের নিজস্ব সম্পত্তি তৈরি করতে পারবে।
২. বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থানের জন্য একজন স্থানীয় পৃষ্ঠপোষক প্রয়োজন হয়। এই কার্ড পেলে স্থায়ী বা অস্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকের আর প্রয়োজন হবে না।
আরব নিউজ সৌদি আরবের সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানিয়েছে এই বিলটি খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সে দেশের মন্ত্রিসভায় যাবে।

গ্রিন কার্ড-এ প্রবাসী বাংলাদেশীদের কি লাভ হবে?

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অনেক নামকরা বাংলাদেশী অধ্যাপক রয়েছেন। সৌদি আরবের অনেক নামকরা চিকিৎসক ও প্রকৌশলী আছেন যারা বাংলাদেশের নাগরিক। অনেক বাংলাদেশী প্রবাসী এখানে ব্যবসা করে অনেক ভালো অবস্থানে আছেন।

নতুন প্রস্তাবিত সিস্টেমটি বিদ্যমান আকামা বা পৃষ্ঠপোষক সিস্টেমের চেয়ে পৃথক, এজন্য নাম প্রিভিলেজড আকামা।

এর অর্থ উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন প্রবাসী চাইলে এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারে এবং তাদের কোন স্থানীয় পৃষ্ঠপোষক প্রয়োজন হবে না।

সৌদি আরবে এমন অনেক সফল প্রবাসী বাংলাদেশী আছেন যারা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে নিজেদের ভালো অবস্থান তৈরি করেছেন। যদি গ্রিন কার্ড সিস্টেম চালু করা হয় এবং তারা ইচ্ছা করলে গ্রিন কার্ড নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে পারবেন।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *