লন্ডনে ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রন্ধনশিল্পীরা

লন্ডনে “ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড” পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রন্ধনশিল্পীরা

প্রবাসীর গল্প সফলতার গল্প

ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রন্ধনশিল্পীরা । এবার ১৩ জন কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে অনবদ্য খাবার পরিষেবা পরিচালনা করার জন্য ব্রিটিশ কারি পুরস্কার পেয়েছেন। একটি জাঁকজমকপূর্ণ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পুরস্কার গুলো বিতরণ করা হয়েছে। রন্ধনশিল্প সম্পর্কে ১৩ টি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়। এবার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক রহমান শাহ এই ১৩ জনের মধ্যে পুরস্কার পেয়েছেন।

১৫ বছর যাবত রন্ধনশিল্পে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। এই পুরস্কারের প্রবর্তক এনাম আলী বলেন কোভিড-১৯ এর কঠিন সময়ে মানবতার বিশেষ দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী এই সব মানুষদের পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করতে পেরে “ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড” পরিবার আজ গর্বিত।

এই প্রথম ইউরোপীয় খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা জাস্ট ইটের সহযোগিতায় একটি রেস্তোরাঁয় খাবারের স্বাদ এবং মানের বিচার করার পরিবর্তে ১৩ টি বিভাগের বিজয়ীদের এই পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে।

এই ১৩ টি বিভাগে যারা পুরস্কার পেয়েছেন তারা হলেনঃ

১.বেস্ট লন্ডন রেস্টুরেন্ট’ বিভাগে বিজয়ী হন সেলিব্রেটি শেফ অতুল কোচার।
২.আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিস টু লোকাল কমিউনিটি ইন দ্য প্যানডেমিক’ বিভাগে বিজয়ী হন জাকির খান – জাইকা রেস্টুরেন্ট রিডিং।
৩.ইন্সপায়ারিং পারসন’ বিভাগে বিজয়ী হন শতবর্ষী চ্যারিটি ব্যক্তিত্ব দবিরুল ইসলাম চৌধুরী ওবিই।
৪.স্পেশাল রিকগনিশন ফর মিডিয়া কাভারেজ অব দ্য কারি ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড কমিউনিটি ইন দ্য প্যানডেমিক’ বিভাগে বিজয়ী হন চ্যানেল এস এর চিফ রিপোর্টার মুহাম্মদ জুবায়ের।
৫.বেস্ট টেকঅ্যাওয়ে অ্যাওয়ার্ড ডিউরিং দ্য প্যানডেমিক’ বিভাগে বিজয়ী হন শাফওয়ান চৌধুরী – ব্রিটিশ রাজ টেকঅ্যাওয়ে।
৬.আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিস ডিউরিং দ্য প্যানডেমিক’ বিভাগে বিজয়ী হন হাবিবুর খান – রাধুনি স্কটল্যান্ড।
৭.লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ইন দ্য প্যানডেমিক’ বিভাগে বিজয়ী হন ব্রিটিশ বাংলাদেশ ক্যাটারারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সেলিম চৌধুরী।
৮.এন্ট্রেপ্রেনার অ্যাওয়ার্ড’ বিভাগে বিজয়ী হন জালফ আলি – ডাব্বাওয়াল / খাই খাই নিউক্যাসল।
৯.আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিস ইন দ্য প্যানডেমিক’ বিভাগে বিজয়ী হন নাজ ইসলাম – স্যাফ্রন রেস্টু রেন্ট নর্দ্যাম্পটন, একই বিভাগে আরেক বিজয়ী সুজিত ডি’আলমিডিয়া – আরবান তান্দুরি ব্রিস্টল।
১১.আনসাং শেফ অ্যাওয়ার্ড’ বিভাগে বিজয়ী রহমান শাহ – ইস্টলিং।
১২.ইন্সপায়ারিং ওমেন’ বিভাগে বিজয়ী পারভিন তোড়িওয়ালা – ক্যাফে স্পাইস নমস্তে, এবং
১৩.ফ্যামিলি রেস্টুরেন্ট টিম অব দ্য ইয়ার’ বিভাগে বিজয়ী হন গুল আনন্দ – ব্রিলিয়ান্ট রেস্টুরেন্ট সাউথহল।

যুক্তরাজ্যের ডেইলি মিররের এক সমীক্ষা অনুসারে, এ বছরের কোভিড-১৯ লকডাউন শুরুর দিকে ইউকে’র বিভিন্ন রেস্তোরাঁ থেকে ইউকে’র স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য ৫ মিলিয়নেরও বেশি খাদ্য প্যাকেজ বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেজের দাম £9, যা প্রায় সাড়ে ৪ কোটি পাউন্ড। যার মাধ্যমে পুরো রেস্তোঁরা শিল্প একটি উদাহরণ স্থাপন করেছে।

“জাস্ট ইট” এর এমডি অ্যান্ড্রু কেনি বলেছেন কোভিড-১৯ এই কঠিন সময়ে আমরা এই মহৎ উদ্যোগের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা গর্বিত। ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রন্ধনশিল্পীরা ।

ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড মধ্য লন্ডনের একটি বৃহত স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত হয়, করোনা মহামারীর কারনে অনুষ্ঠানের জমকালো আয়োজনের পরিবর্তে ছিল একদম অতিথি শূন্য। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। তবে, ইউটিউব, ফেসবুক, জুম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং লিংকডইন নেটওয়ার্কগুলিতে সরাসরি সম্প্রচার করে মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি বিশ্বের প্রতিটি কোণে পৌঁছানো হয়।

ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড ২০০৫ সালে শুরু হয়েছিল। এই উদ্যোগে প্রত্যেকবার ১২,০০০ এর থেকে বেশি রেস্তোরাঁ অংশ গ্রহণ করে যার মধ্যে প্রায় ৮৫% রেস্তোরাঁর মালিক বাংলাদেশি। এই শিল্পটি প্রতি বছর যুক্তরাজ্যের কোষাগারে ৫ বিলিয়ন পাউন্ড অর্থাৎ ৫০০ মিলিয়ন ডলার এর বেশি অবদান রাখছে এবং লক্ষ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান করেছে।

ব্রিটিশ রন্ধনশিল্পের খ্যাতি আজ বিশ্বজুড়ে। যদিও খুব কম লোকই জানেন বর্তমানের এই অনন্য সাফল্যের যাত্রা আজ থেকে শুরু হয়েছিল ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ সালে। সেই সময় একদল অদম্য ও সাহসী উদ্যোক্তা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসে এই দায়িত্ব তাদের নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছিল। সেদিনের এই উদ্যমী ও সাহসী মানুষদের হাত ধরেই গড়ে ওঠে যুক্তরাজ্যের রন্ধনশিল্প।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *