মালয়েশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে চান বাংলাদেশের শারমিন

মালয়েশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে চান বাংলাদেশের শারমিন

প্রবাসীর গল্প সফলতার গল্প

পর্যটকদের দেশ মালয়েশিয়া। ব্যবসা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এদেশের অনেক সুনাম রয়েছে। সারা বিশ্বের মানুষ মালয়েশিয়ায় ব্যবসা করছে। কেউ কেউ ব্যবসায় সফল হয়েছেন, আবার কেউ ব্যর্থ হয়েছেন। মালয়েশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে চান বাংলাদেশের শারমিন।

শারমিন রহমান একজন বাংলাদেশী নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। তিনি মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং মালয়েশিয়ায় নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। নিজের সাফলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি বহু মানুষকে দেখেছি যারা মালয়েশিয়ায় এসে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। আপনি যদি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রস্তুত না হন তবে আপনাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ধোঁকা খেতে হবে। তাই আপনাকে অবশ্যই জানাতে হবে, অবশ্যই বুঝতে হবে।”

মালয়েশিয়ায় এসে আপনাকে সবথেকে প্রথমে যা জানতে হবে তা হলো মালয়েশিয়ার ভাষা। ভাষা জানলে মালয়েশিয়ায় ব্যবসা করা বা যেকোন কাজ করা খুব সহজ হয়।

জীবনে সফলতা পেতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। পরিশ্রম না করে জীবনে কেউ সফলতা অর্জন করতে পারে না।
শারমিন অনেক আশা স্বপ্ন নিয়ে ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় আসেন। তিনি মা-বাবার বড় সন্তান। একজন বাঙালি মেয়ে হয়ে বিদেশে আসার ক্ষেত্রে তিনি অনেক বাধার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি কারো কথা শোনেনি। কখনো পিছনে ফিরে তাকান নাই। অনেক সমস্যা পাড় করে তিনি এ পর্যন্ত এসেছেন। নিজের কাজে সফলতা পেতে, তিনি ছুটে গিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায় এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী হিসেবে তিনি অল্প সময়ে সফলতার মুখ দেখেছেন।

তিনি তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, “আমি চাকুরির জন্য ৩০০ এরও বেশি সিভি জমা দিয়েছিলাম।”

এরপরেও তিনি হাল ছাড়েননি। চাকরির সন্ধান করে গেছেন। এভাবে একদিন মালয়েশিয়ার একটি নামী প্রতিষ্ঠানে চাকরি অফার পান।

তিনি মালয়েশিয়ার একটি নামকরা প্রতিষ্ঠান আকুরা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এ চাকরি পেয়ে যান। যা আর্কিপেলাগো গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। তার কাজের ভালো পারফরম্যান্স দেখে প্রতিষ্ঠানের নামে ক্যাটাগরি ওয়ান ভিসা দেওয়া হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন।

এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ হচ্ছে ব্যতিক্রমী জীবনকালীন বীমা নিয়ে কাজ করা। কাজের প্রয়োজনে শারমিন শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুর সফর করেছেন।

চাকরির পাশাপাশি, তিনি তার স্বামী শেখ আরিফ রাব্বানী জামির সাথে ২০১৯ সালে মালয়েশিয়ায় জ্যাশ ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি কোম্পানি গঠন করেছিলেন। এই কোম্পানির মাধ্যমে তারা বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করেন।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে চান বাংলাদেশের শারমিন।

তিনি বাংলাদেশী প্রবাসীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেবার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর স্বামী শেখ আরিফ রাব্বানী জামি সর্বদা এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেন।

শারমিন বলেন, “কঠোর পরিশ্রমের যেমন কোন বিকল্প নেই, তেমনি নিজেকে অন্যের সামনে কিছুটা আলাদাভাবে উপস্থাপন করার ক্ষমতা অর্জন করা জরুরি। ব্যতিক্রম কোন কাজ না করে বিদেশে নিজের অবস্থান তৈরি করা প্রায় অসম্ভব।”

আপনাকে আপনার দক্ষতা বাড়াতে হবে, আপনাকে যে কোনও সমস্যা চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিতে হবে। কারণ খুব কিছু না করে হার মেনে নেওয়া খুব সহজ এবং সকল বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া খুব কঠিন।

মালয়েশিয়ায় মেয়েদের নির্ভয়ে চলাফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় মেয়েদের অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে দেখা হয়। পুলিশ সবসময় যে কোনও সমস্যায় সহায়তা করে। পাবলিক ট্রান্সপোর্টে বা পায়ে হেঁটে কাজের কারণে অনেক সময় মেয়েরা অনেক রাত করে ফিরে আসে। তাদেরকে কেউ বিরক্ত করে না।

শারমিন রহমান তার সাফল্যের জন্য তার মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কারন তার মা পুরো সময় তার মেয়ের পাশে ছিলেন। মা, বাবা, স্বামী এবং ছোট বোন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন। জীবনে আরো উন্নতি করার স্বপ্ন দেখেন শারমিন রহমান।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *