বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি অর্থমন্ত্রীর আহ্বান

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি অর্থমন্ত্রীর আহ্বান

প্রশাসনিক তথ্য

অর্থমন্ত্রী এএইচএম মোস্তফা কামাল বিশ্ব ব্যাংককে অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দেশে এবং বিদেশে আমাদের সকল কর্মী অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, বুধবার বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা উপলক্ষে ভার্চুয়াল গোলটেবিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এএইচএম মোস্তফা কামাল এই মন্তব্য করেন। এই বার্ষিক সভায় দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্ট উয়িং শেফার উপস্থিত ছিলেন।

প্রবসে শ্রমিকদের দুর্দশার স্বীকৃতি জানাতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী এএইচএম মোস্তফা কামাল বলেছেন, আমাদের শ্রমিকরা দেশ ও বিশ্বের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য অনেক কষ্ট করেন। সুতরাং বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের এই অর্জনকে বিশ্বব্যাংক স্বীকৃতি দিলে আমি খূব আনন্দিত হব। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্য প্রাচ্য এবং পূর্ব এশিয়া সহ বিশ্বের প্রতিটি বড় শহরে এই সকল শ্রমিকদের বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে তার প্রশংসা করা কেবল আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য নয়, এটি সারা বিশ্বের সর্ব স্তরের প্রবাসী শ্রমিকদের অনুপ্রাণিত করবে।

আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী আবদুল হাদি আরগান্দিওয়াল, ভুটানের অর্থমন্ত্রী লায়নপো নাম্গে শেরিং, ভারতের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, মালদ্বীপের অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম আমির, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ডঃ যুবরাজ খতিওয়াদা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ড. সানিয়া নিশতার এবং শ্রীলংকার শিক্ষামন্ত্রী প্রফেসর জি.এল.পিরিস উক্ত ভার্চুয়াল গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

অর্থমন্ত্রী এএইচএম মোস্তফা কামাল বলেন, বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ধারনা করেছিলেন যে, করোনা মহামারির কারণে বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্স কমে যাবে। রেমিট্যান্স যা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম একটি বড় খাত। এই রেমিট্যান্স বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমি সবাইকে এটি জানাতে পেরে আনন্দিত যে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স সবসময়ই উর্ধ্বমুখী ছিল এবং সম্প্রতি এটি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সর্বাধিক পরিমাণ রেমিটেন্স পেয়েছি যা ১৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রথম দিকে ৬.৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৯% এর বেশি। আমাদের সরকার ঘোষিত ২% সরাসরি নগদ প্রণোদনা নীতি প্রশংসার যোগ্য। সুতরাং আমাদের রেমিট্যান্স মোটেই কমেনি তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১১.৬ মিলিয়ন বাংলাদেশী নাগরিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেন। মালয়েশিয়ায় পরিচালিত একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে মালয়েশিয়ায় পরিচালনা পর্যায়ের বিদেশীদের মধ্যে ৩৭% প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিক। তাই বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি অর্থমন্ত্রীর আহ্বান জানিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বন্ধের কারণে গৃহবন্দি অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে উদ্বেগ উপেক্ষা করা যায় না। ১,৯৫,৬৯৮ জন শ্রমিক গত ১ লা এপ্রিল থেকে ১৫ ই অক্টোবরের মধ্যে দেশে ফিরে এসেছেন এবং এ বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কোনও নতুন শ্রমিক প্রবাসে যেতে পারেননি।

পরিশেষে তিনি বলেন, সাধারনত দেখা যায় যে, গত কয়েক বছরে প্রতি মাসে প্রায় ৬০,০০০ জন শ্রমিক বিদেশে কাজের জন্য যান। আমাদের সরকার কর্মীদের স্বল্পতম সময়ে বিদেশে যেতে ও ফিরে আসতে সহায়তা করার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেন।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *