মৃত প্রবাসী শ্রমিকের পরিবারকে যেসব সুবিধা দেয় সরকার

বাংলাদেশের কোন শ্রমিক প্রবাসে মারা গেলে বাংলাদেশ সরকার কি কি সুবিধা দেবে?

প্রশাসনিক তথ্য

প্রবাসী শ্রমিক মারা গেলে শ্রমিকের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। মৃতদেহটি বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার পরে, এটি পরিবহন এবং দাফনের ব্যয়ের জন্য সরকারী অনুদান দেওয়া হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মৃত প্রবাসী কর্মীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ প্রদান করে থাকে। মৃত প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে এই সুবিধাগুলি পেয়ে থাকেন। মৃত প্রবাসী শ্রমিকের পরিবারকে যেসব সুবিধা দেয় সরকার ।

এ বিষয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন: “বিদেশে প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং তাদের পরিবারের সাধারণ কল্যাণে সরকার বদ্ধপরিকর। সুতরাং, প্রবাসী শ্রমিক এবং তাদের পরিবারগুলির কাছ থেকে যদি কোন অভিযোগ বা সমস্যা থেকে থাকে তবে দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় ”।

২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর এর মধ্যে ৩,১৫৪ জন প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ বাংলাদেশে এসেছিল বলে জানান ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক প্রশাসন সালাউদ্দিন আহমেদ । জানুয়ারি থেকে নভেম্বর এই ১১ মাসে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ২,৯৫২ টি প্রবাসী শ্রমিকের মৃতদেহ বহন ও কবর দেওয়ার জন্য ও তাদের স্বজনদের ১,৩২,৫০০০০/- (এক কোটি বত্রিশ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা) দিয়েছে। এ ছাড়া ৩,৩৪৪ জন নিহত প্রবাসী শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের আর্থিক অনুদান হিসাবে ৯৬,৯০,৮০,১৯২/- (ছিয়ানব্বই কোটি নব্বই লাখ আশি হাজার একশত বিরানব্বই) টাকা পেয়েছেন।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন) সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন “প্রবাসী শ্রমিকদের বিদেশ যাত্রার অনুমোদনের বিষয়টি যাচাই, ফর্ম ও কার্ড পূরণ করতে এবং কর্মীদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি প্রবাসী কল্যাণ অফিস রয়েছে। তাদের মাধ্যমে প্রবাসী শ্রমিকদের মরদেহ দেশে আনার পরে তাদের পরিবারকে মৃতদেহ প্রদান, পরিবহন ও দাফনের জন্য চেক দেওয়া হয়। মৃত প্রবাসী শ্রমিকের পরিবারকে যেসব সুবিধা দেয় সরকার তা হলঃ

মৃতদেহ দেশে নিয়ে আসা

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড তার পরিবারের মতামত নিয়ে প্রবাসে মারা যাওয়া বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ নিয়ে আসে। এর মধ্যে কোন মৃত ব্যক্তির পরিবার যদি সংশ্লিষ্ট সেই দেশে মৃতদেহ দাফন করতে চাইলে সে ব্যবস্থাও এই সংস্থার মাধ্যমে করা হয়। যদি মৃত ব্যক্তির পরিবার মৃতদেহ দেশে আনার খরচ বহন করতে না পারেন সেক্ষেত্রে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কল্যাণ তহবিল থেকে খরচ দেওয়া হয়।

মৃতদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তার জন্য আপনাকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কাছে আবেদন করতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে আবেদন ফর্মের একটি নমুনা বা অনুলিপি পাওয়া যাবে। এই আবেদন ফর্মটি জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অফিস থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে।

আপনি চাইলে এখান থেকে ফর্মটি ডাউনলোড করতে পারেন।

মৃতদেহ পরিবহন ও দাফন বাবদ খরচ

একজন বাংলাদেশী শ্রমিক প্রবাসে মারা গেলে মৃত ব্যক্তির পরিবার বিমানবন্দর থেকে প্রাপ্ত মৃতদেহটি পরিবহন ও কবর দেওয়ার জন্য ৩৫,০০০ টাকা চেকের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পান। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে এই চেক হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেয়া হয়। এই দাফন খরচ নেবার জন্য মৃত প্রবাসীর পরিবারকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন এনআইডি, পারিবারিক পরিচয় পত্র বা সনদ ইত্যাদি তাদের সাথে আনতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলোর নমুনা কপিগুলি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

আপনি চাইলে এখান থেকেও ডাউনলোড করতে পারবেন।

আর্থিক অনুদান

বৈধভাবে বিদেশে যাওয়া নিহত শ্রমিকের পরিবার ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কাছ থেকে আর্থিক অনুদান পাবেন। ১লা এপ্রিল ২০১৩ সাল থেকে প্রবাসে মারা যাওয়া শ্রমিকের প্রতিটি পরিবার তিন লাখ টাকা আর্থিক অনুদান পাচ্ছেন। এই আর্থিক অনুদান পাওয়ার জন্য নিহত প্রবাসী শ্রমিকের পরিবারের পক্ষ থেকে অবশ্যই কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হবে।
সেগুলো হলঃ
১। নিহত ব্যক্তি যে এলাকার সেই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়র অথবা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরের অফিস প্যাডে নিহতের পরিবারের সনদপত্র। এই সনদপত্রটি অবশ্যই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা সিটি কর্পোরেশন এলাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা স্বাক্ষরিত হতে হবে।

২। ৪০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সেই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি বা পৌরসভার মেয়র অথবা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরকে স্বাক্ষর করাতে হবে এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর স্বাক্ষর করতে হবে।

৩। মৃত ব্যক্তির পাসপোর্টের ফটোকপি, বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রত্যয়নপত্র, মৃত্যু সনদের সত্যায়িত ফটোকপি।

৪। পরিবারের পক্ষ থেকে যিনি অর্থ গ্রহন করবেন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, সেই ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর মূল কপি।

৫। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ১ কপি সত্যায়িত ছবি। কাউন্সিল এর মাধ্যমে সত্যায়িত হতে হবে। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস থেকে ১ কপি ছবি।

আপনি চাইলে নমুনা কাগজ পত্রের ছবি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন।

আমাদের দেশে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় প্রবাসী কল্যাণ ভবনে প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সেবা প্রদানের জন্য ডিজিটাল হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে। এটি সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চালু থাকে। আপনাদের প্রয়োজনে ডিজিটাল হেল্প ডেস্ক এর যোগাযোগ এর নাম্বার ও ঠিকানা নিচে দেওয়া হল।

ডিজিটাল হেল্প ডেস্কের নম্বরগুলো হলোঃ
০১৭৮৪৩৩৩৩৩৩,
০১৭৯৪৩৩৩৩৩৩,
৯৩৩৪৮৮৮।

প্রবাসী শ্রমিক এবং তাদের পরিবার সমস্যাগুলি জানাতে এবং সহায়তা পাবার জন্য এই নম্বরগুলিতে কল করতে পারেন।

আপনার প্রয়োজনে আপনি বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন নিয়ে যেতে পারেন।

প্রবাসী কল্যাণ ভবন,
৭১-৭২ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড,
ইস্কাটন গার্ডেন, রমনা, ঢাকা।

বাংলাদেশের কোন শ্রমিক প্রবাসে মারা গেলে বাংলাদেশ সরকার কি কি সুবিধা দেবে?
মৃত প্রবাসী শ্রমিকের পরিবারকে যেসব সুবিধা দেয় সরকার । মারা যাওয়া প্রবাসী শ্রমিকের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা অনুদান দেয় সরকার।

এই সমস্ত ধাপগুলো নিচে একটি ফ্লো-চার্ট এর মাধ্যমে দেখান হলঃ

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *