প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ প্রকল্প । বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের ঋণ দিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক

প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ প্রকল্প । বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের ঋণ দিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক

ব্যাংক লোন

সাধারণত দেখা যায় আমাদের দেশে প্রবাসীরা দেশে ফিরে আসার পর এক রকম বেকার হয়ে যায়। কি করবেন খুঁজে পান না। আবার যে কারণেই হোক দেশে তাদের করার মতো বিশেষ কোনো কাজ থাকে না, যা তারা প্রবাসে করে আসছিল। প্রবাসের হয়তোবা কিছু টাকা জমানো ছিল সেটা দেশে এসে খরচ করতে থাকে। যাদের জমানো কোন টাকা নাই তারা দেশে ফেরার পর হতাশাগ্রস্ত জীবনযাপন করেন। টাকা থাকলে একটা সময় সব খরচ হয়ে যায় তখন কিছুই থাকেনা। একেবারে নিঃস্ব জীবন যাপন করেন। আর এই হতাশাগ্রস্থ থেকে বের হয়ে এসে কর্মসংস্থান করার জন্য প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ প্রকল্প । বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের ঋণ দিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ।

এই প্রবাসী বিদেশ ফেরত মানুষদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এই প্রবাসী কর্মসংস্থান লোন এর আওতায় প্রবাস ফেরত মানুষগুলো সহজ শর্ত সহজ কিস্তিতে ঋণ নিয়ে দেশে নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবেন। আজ প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ কি?

বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের পুনর্বাসন ঋণ বা রিহ্যাবিলিটেশন লোন দিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। আপনি যদি বিদেশ ফেরত প্রবাসী হয়ে থাকেন তবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ পাবেন। আপনি যদি ইতিমধ্যে প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে ফিরে আসেন বা দেশে ফিরে এসে কিছু করার কথা ভাবছেন তাহলে এই ঋণ আপনার জন্য। প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ প্রকল্প । বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের ঋণ দিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এবং এই ঋণ নিয়ে আপনি দেশে নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এই প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ আপনি যে খাতগুলোতে ব্যায় করতে পারবেনঃ

  • কৃষি ঋণ প্রকল্প
  • মাঝারী ধরনের কৃষি নির্ভর শিল্প ঋণ প্রকল্প
  • মুরগীর খামার প্রকল্প
  • মৎস্য চাষ প্রকল্প
  • বায়োগ্যাস প্লান্ট প্রকল্প
  • সৌর জ্বালানি খাত প্রকল্প
  • তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর উদ্যোক্তা ঋণ প্রকল্প
  • একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প
  • নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র কুটির শিল্প প্রকল্প
  • গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প
  • দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামার প্রকল্প।

প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ প্রাপ্তির যোগ্যতা নিয়মঃ

  • প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই বিদেশ ফেরত হতে হবে এবং সেই প্রবাসী ব্যক্তির বৈধ কাগজপত্র থাকতে হবে।
  •  প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ ঋণ প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারীকে বিদেশ থেকে ফিরে আসার প্রথম ৫ বছরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
  • আবেদনকারীকে বৈধ ব্যবসায়ী হতে হবে অর্থাৎ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু করার পর লোন আবেদন করতে হবে।
  • আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা ভাল হতে হবে। যেমন, জামানতের জন্য গ্যারান্টি কৃত সম্পত্তি তার নিজ নামে বা তার পিতার নামে থাকতে হবে।
  • ঋণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ জীবন বৃত্তান্ত প্রদান করার পর তা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পাশ করলে ঋণ প্রদান করা হবে।
  • ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রাথমিক আবেদন গ্রহন করা হলে ঋণ সম্পর্কিত মূল ফরমটি পূরণ করে জমা দিতে হবে।
  • ঋণ গ্রহণকালে জামানত কৃত সম্পত্তির মূল মালিকানা দলিল অন্যান্য কাগজপত্র সহ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এর লোন পাওয়ার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগবে?

আপনি যদি প্রবাস ফেরত হন বা যদি দেশে ফিরে নিজের কিছু করতে চান তবে আপনাকে স্বাবলম্বী করতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সহজ শর্তে প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ প্রদান করবে। এই ঋণের জন্য আবেদন করতে আপনার যে কাগজপত্র গুলো লাগবে তা হল,

  • আবেদনকারীর আবেদন পত্র সহ পারিবারিক তথ্য সংবলিত পূর্ণ জীবন বৃত্তান্ত।
  • আবেদনকারীর সদ্য তোলা ৩ (তিন) কপি পাসপোর্ট সাইজ সত্যায়িত ছবি,
  • ভোটার আইডি কার্ডের সত্যায়িত ফটোকপি,
  • বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা সংবলিত পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট এর সত্যায়িত ফটোকপি।
  • আবেদনকারীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি।
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত বিবরণ সহ প্রকল্পের ঠিকানা। যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন হয় তবে আগামী ২ (দুই) বছরের সম্ভাব্য আয়-ব্যয় বিবরণী।
  • প্রকল্পের স্থানঃ
    • ভাড়া করা হইলে ভাড়ার চুক্তিপত্রের ফটোকপি।
    • নিজস্ব জায়গা হইলে মালিকানার প্রমাণপত্র।
    • পুরোনো প্রকল্প হলে ২ (দুই) বছরের লাভ বা লোকসানের হিসাব ও ঋণ গ্রহীতার নিজস্ব বিনিয়োগের পরিমান।
  •  যে জমি জামানত হিসাবে দিবেন তার দলিলপত্র, পর্চা, খারিজ, খতিয়ান ও হালনাগাদ করা খাজনার দাখিলার সত্যায়িত ফটোকপি।
  • আবেদনকারীর জামিনদারদের প্রত্যেকের
    • সদ্য তোলা ২ কপি করে সত্যায়িত ছবি,
    • ভোটার আইডি কার্ডের সত্যায়িত ফটোকপি,
    • বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা সংবলিত পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের সার্টিফিকেট এর সত্যায়িত ফটোকপি।
  • এছাড়াও যে সকল ব্যাক্তি জামিনদার হবেন তাদের আরও কিছু কাগজপত্র। যেমন,
    • জামিনদারের আর্থিক অবস্থা বিবরণীর কাগজপত্র। (যদি প্রয়োজন হয়)
    • জামিনদারগনের স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানার পূর্ণ বিবরণ।
  • বিদেশ থেকে ফিরে আসা সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি। যেমন,

    • তিনি কেন ফিরে আসলেন তার বিবরণ।
    • কবে ফিরেছেন দিন ও তারিখ সহ।
    • পাসপোর্ট এর কপি
    • পূনরায় যাবার সম্ভাবনা বা ইচ্ছা আছে কিনা থাকলে কারন সহ উল্লেখ করতে হবে।
  • আবেদনকারীর কর্ম অভিজ্ঞতার সনদপত্র। যেমন,

    • হাঁস-মুরগী পালন, গরু-ছাগল পালন, মৎস্য চাষ ইত্যাদি প্রকল্পের জন্য কোন প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা আছে কিনা। যদি থাকে তবে তার সনদপত্র।
    • হাতের কাজ আসবাবপত্র তৈরি অন্য কোন পেশার অভিজ্ঞতা থাকলে তার বিবরণ।
  • আর্থিকভাবে সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত ২ (দুই) জন পরিচয় প্রদানকারীর নাম ও ঠিকানা ফোন নং সহ।
  • ঋণ সংক্রান্ত তথ্য। যেমন,
    • ব্যক্তিগত ঋণের বিবরণ। আবেদনকারী ব্যক্তির অন্য কোন ঋণ নেওয়া থাকলে তার বিবরন।
    • কোন সংস্থা, এনজিও, ব্যাংক হতে ঋণ নিয়ে থাকলে তার বিবরণ।
  • ১৫. আবেদনকারী ব্যক্তি ঋণ খেলাপি কিনা সেটা উল্লেখ করতে হবে।
  • ১৬. আবেদনকারী ব্যক্তির ঋণ ফেরত প্রদানের হলফনামা।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের লোনের সুদের হার

  • সুদের হার ৯%

বিঃদ্রঃ আবেদনকারী ব্যক্তির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী ঋণের গ্রেস পিরিয়ড নির্ধারিত হবে।

আমাদের প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ আলোচনা। এ সম্পর্কে আরও কিছু জানতে চাইলে আমাদের কমেন্ট করুন আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর দিব। সবাই ভাল থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।

1 জন মতামত দিয়েছেন “প্রবাসী কর্মসংস্থান ঋণ প্রকল্প । বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের ঋণ দিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক

  1. আমি বিদেশ ফেরত। করোনা ভাইরাস এর জন্য সিঙ্গাপুর থেকে চলে আসতে হয়েছে। আমি আ আবার বিদেশ যেতে চাচ্ছি কিন্তু টাকার জন্য যেতে পারছি ন। লোন পাওয়ার জন্য আমাকে কেও সাহায্য করলে উপকৃত হতাম

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *