ডিভি লটারি - বিস্তারিত । বাংলাদেশ থেকে কি আবেদন করা যাবে

ডিভি লটারি – বিস্তারিত । বাংলাদেশ থেকে কি আবেদন করা যাবে?

প্রশাসনিক তথ্য

বৈধ উপায়ে আমেরিকা যাওয়ার সপ্ন প্রায় সবাই দেখেন। সেই সপ্ন সহজে পূরনের জন্য আছে ডাইভার্সিটি ভিসা বা ডিভি লটারি। প্রতি বছরের মত এবারো যুক্তরাষ্টের পররাষ্ট মন্ত্রনালয় আয়োজন করেছে ডাইভার্সিটি ভিসা বা ডিভি কর্মসূচী। এই কর্মসূচির আওতায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ৫৫০০০ মানুষকে ডাইভার্সিটি ভিসা বা গ্রিন কার্ড দিবে আমেরিকান সরকার। আজকে আলোচনা করবো এই ডিভি লটারি কি, আবেদনের নিয়ম, আবেদনের জন্য কি কি তথ্য লাগবে, কোন কোন দেশ থেকে ডিভি লটারি আবেদন করা যাবে, কোন কোন দেশ থেকে ডিভি লটারি আবেদন করা যাবে না।

ডিভি লটারি কি?

বৈধ ভাবে আমেরিকা যাওয়ার জন্য প্রায় ১৮৫ রকম ভিসা প্রচলিত আছে। তার মধ্যে ডিভি লটারি অনেক বেশি পরিচিত ও জনপ্রিয়। ডিভি লটারির মাধ্যমে আমেরিকা প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫৫০০০ লোক লটারীর মাধ্যমে এই ভিসা কর্মসুচীর আওতায় আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়। যেই দেশ গুলোর অভিবাসি আমেরিকাতে কম শুধুমাত্র সেই সমস্ত দেশ থেকে এই ডিভি লটারির জন্য আবেদন করা যায়। এই ভিসার জন্য আবেদন করতে কোনো ফি দিতে হয় না। শুধু ডিভি বিজয়ীদের ভিসা গ্রহনের সময় নির্ধারীত ফি জমা দিতে হয়।

ডিভি লটারি আবেদনের নিয়ম কি?

ডিভি লটারি যখন চালু হবে তখন নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন করতে হবে। আবেদনের জন্য ডিভি লটারির অফিসিয়াল ওয়েব সাইট www.dvlottery.com/register/ এ গিয়ে ১০০% সঠিক তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে। কোন ভাবেই কোন ভুল তথ্য ফরমে দেয়া যাবে না।

একজন মানুষ শুধু মাত্র একবার আবেদন করতে পারবেন। আপনি যদি বিবাহিত হন তাহলে স্বামী বা স্ত্রী আলাদা আলাদা আবেদন করতে পারবেন।

ডিভি লটারি আবেদনের জন্য কি কি তথ্য লাগবে?

ডিভি আবেদনের জন্য ডিভি লটারির অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে গিয়ে ওয়েবসাইটের নির্ধারিত আবেদনের ফরমে লিম্নলিখিত তথ্যগুলো সতর্কতার সাথে পূরন করতে হবে,

  1. আবেদনকারীর পুরো নাম
  2. জন্মতারিখ (জন্মনিবন্ধন কার্ডে যা উল্লেখ আছে)
  3. জন্মস্থান (প্রার্থী যে শহরে বা জেলায় জন্মগ্রহন করেছেন। আপনার জন্মনিবন্ধন কার্ডে যা উল্লেখ আছে)
  4. দেশ
  5. ডিভি আবেদনকারীর ছবি
  6. পুর্ণ ঠিকানা
  7. বর্তমানে আপনি যে দেশে বসবাস করছেন
  8. ফোন নম্বর (যদি থাকে)
  9. ই-মেইল এড্রেস (যদি থাকে)
  10. সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যাতা
  11. বৈবাহিক অবস্থা
  12. সন্তানের সংখ্যা
  13. স্বামী বা স্ত্রী সংক্রান্ত তথ্য (আবেদনকারী স্বামী হলে এই অংশে স্ত্রীর তথ্য দিতে হবে)
  14. শিশু সন্তান সংক্রান্ত তথ্য (সন্তানের বয়স ২১ বছরের নিচে হলে)

ডিভি লটারি সংক্রান্ত কিছু জরুরি তথ্যঃ

একজন আবেদনকারী একটির বেশি আবেদন করতে পারবেন না। তবে স্বামী-স্ত্রী পৃথকভাবে দুইটি আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন প্রক্রিয়া সফল ভাবে সম্পন্ন হলে একটি “কনফার্মেশন নাম্বার” সহ আবেদনকারীর নাম ও জন্ম সাল দেখানো হবে। ডিভি লটারির পরবর্তি ধাপের জন্য এই তথ্যগুলো সংরক্ষন করে রাখা খুব জরুরী। পরবর্তি সময়ে অনলাইনে ভিসা প্রাপ্তি কিংবা স্ট্যাটাস জানতে এই তথ্য সমুহ প্রয়োজন হবে।

কোন কোন দেশ থেকে ডিভি লটারি আবেদন করা যাবে না?

বাংলাদেশ সহ ১৯ টি দেশের নাগরিকরা ডিবি লটারিতে আবেদন করতে পারবেন না। এর কারণ হিসেবে আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব দেশ গত ৫-১০ বছরে ৫০,০০০+ অভিবাসী আমেরিকায় পাঠিয়েছে। তাই ডিভি লটারির জন্য এই সমস্ত দেশের কোঠা শেষ হয়ে গিয়েছে। যদি কখনো আমেরিকান সরকার অভিবাসীদের জন্য আইন সংশোধন করেন তবে হয়ত এই সমস্ত দেশ গুলো থেকেও ডিভি লটারির জন্য আবেদন করা যেতে পারে।
দেশগুলো হলঃ

১. বাংলাদেশ,
২. ব্রাজিল,
৩. কানাডা,
৪. চীন (হংকং এসএআর সহ),
৫. কলম্বিয়া,
৬. ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র,
৭. এল সালভাদোর,
৮. গুয়াতেমালা,
৯. হাইতি,
১০. হন্ডুরাস,
১১. ভারত,
১২. জামাইকা,
১৩. মেক্সিকো,
১৪. নাইজেরিয়া,
১৫. পাকিস্তান,
১৬. ফিলিপাইন,
১৭. দক্ষিণ কোরিয়া,
১৮. যুক্তরাজ্য (উত্তর আয়ারল্যান্ড বাদে) এবং এর উপর নির্ভরশীল অঞ্চল এবং
১৯. ভিয়েতনাম।

কোন কোন দেশ থেকে ডিভি লটারি আবেদন করা যাবে?

উপরে উল্লেখিত ১৯ টি দেশ বাতিত অন্যান্য সকল দেশের নাগরিকরা ডিভি লটারির জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরবর্তীতে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের বাছাই করা হবে।

কিভাবে বাংলাদেশ থেকে ডিভি লটারি আবেদন করা যাবে?

আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য থেকে জানা যায় যেসব দেশ গত ৫-১০ বছরে ৫০,০০০+ অভিবাসী আমেরিকায় পাঠিয়েছে ডিভি লটারির জন্য সেই সমস্ত দেশের কোঠা শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে খুশির খবর হল, ২ টি শর্তে বাংলাদেশ সহ কোঠা শেষ হয়ে যাওয়া ১৯ টি দেশের নাগরিক ডিভি লটারির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

শর্ত ২ টি হলঃ

উপরে বর্ণিত বাদ পড়া যে কোন দেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারেন যদি,
১। তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের মধ্যে কেউ কোঠা শেষ হয়নি এমন কোন দেশের একটিতে জন্ম গ্রহন করে থাকেন, তাহলে তার নামে আবেদন করতে পারবে।

২। তাদের পিতা-মাতা মধ্যে কেউ কোঠা শেষ হয়নি এমন কোন দেশের একটিতে জন্ম গ্রহন করে থাকেন অর্থাৎ তারা কোঠা শেষ হয়ে যাওয়া দেশের অস্থায়ী নাগরিক। তাহলে তাদের ছেলে মেয়ে ডিভি লটারির জন্য আবেদন করতে পারবে।

আপনি যদি এই ২ টি শর্তের কোন একটির মধ্যে পরেন তাহলেই কেবল আপনি বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও ডিভি লটারির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাছাড়া কোন ভাবেই আপনার ডিভি লটারির জন্য আবেদন করা সম্ভব না।

এই সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এই পোস্টটি পড়ুনঃ

আশা করছি আমাদের এই পোস্টের মাধ্যমে আপনি নতুন কিছু তথ্য পেয়েছেন। এই সম্পর্কে আপনার মতামত বা পরামর্শ জানাতে কমেন্ট করুন। ভাল থাকবেন। ধন্যবাদ।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *