ডিভি লটারি ও বাংলাদেশ । কোন ২ টি শর্তে বাংলাদেশ থেকে আবেদন করা যাবে

ডিভি লটারি ও বাংলাদেশ । কোন ২ টি শর্তে বাংলাদেশ থেকে আবেদন করা যাবে?

Uncategorized

স্ট্যাচু অব লিবার্টি ছুয়ে দেখার স্বপ্ন দেখেনি এমন কাউকে মনে হয় খুজে পাওয়া যাবে না। হ্যাঁ আমাদের সবার স্বপ্নের দেশ আমেরিকা। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকা অন্যতম। আমাদের সমস্ত মৌলিক চাহিদার উন্নত ব্যবস্থা তো সেখাএ আছেই এছাড়া রয়েছে উন্নত জীবন যাত্রার মান, কর্মসংস্থান, রাস্তা ঘাঁট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ আমেরিকায় বসবাসের স্বপ্ন দেখে। আমাদের বাংলাদেশেও এই মানুষের সংখ্যা কম নয়। আমেরিকার সরকারও চায় সারা পৃথিবীর মানুষ এখানে বসবাস করুক। এক আমেরিকায় গেলেই পৃথিবীর সব দেশের মানুষদের দেখা যাবে। এই জন্য আমেরিকান পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বিভিন্ন রকম ভিসা দিয়ে থাকে। যেন সারা পৃথিবী থেকে মানুষ সেখানে গিয়ে থাকতে, কাজ করতে ও আমেরিকাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এই ভিসা গুলোর মধ্যে ডিভি বা ডাইভারসিটি ভিসা একটি। ডিভি’র মাধ্যমে সারা পৃথিবী থেকে লটারির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৫৫০০০ লোককে আমেরিকার ভিসা দেওয়া হয়। আজ এই ডিভি লটারি ও বাংলাদেশ থেকে এতে অংশ নেবার ব্যপারে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

ডিভি লটারি কি?

বৈধ ভাবে আমেরিকা যাওয়ার জন্য আমেরিকান পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় প্রায় ১৮৫ রকম ভিসার প্রচলন করেছে আছে। তার মধ্যে ডিভি লটারি একটি যা অনেক বেশি পরিচিত ও জনপ্রিয়। ডিভি’র মাধ্যমে আমেরিকা প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫৫০০০ লোককে লটারীর মাধ্যমে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়। পৃথিবীর সব দেশের মানুষ যেন আমেরিকা থাকার সুযোগ পায় সেই জন্য তারা এই ভিসা চালু করে। যেই দেশ গুলোর অভিবাসি আমেরিকাতে কম শুধুমাত্র সেই সমস্ত দেশ থেকে এই ডিভি লটারির জন্য আবেদন করা যায়। এই ভিসার জন্য আবেদন করতে কোনো ফি দিতে হয় না। শুধু ডিভি বিজয়ীদের ভিসা গ্রহনের সময় নির্ধারীত ফি জমা দিতে হয়।

ডিভি লটারির ইতিহাস কি?

১৯৮৭ সালে আমেরিকার সেই সময়ের রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রেগান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বসবাসরত ২০ লাখ মেক্সিকানকে সাধারণ ক্ষমা ও স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ড দেওয়ার বিল পাস করেন। সেই সাথে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নষ্ট হয়ে যাওয়া জাতিগত বৈচিত্র্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন। তাই গ্রিন কার্ড লটারির মাধ্যমে আমেরিকার জাতীয় বৈচিত্র্য ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং তা সংরক্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। এতে অংশগ্রহণকারীদের যোগ্যতা ও আবেদনের নিয়ম সহজ করা হয়েছিল যাতে আবেদনকারীদের প্রত্যেকেরই আমেরিকায় অভিবাসনের সুযোগ হয়।

এই গ্রিন কার্ড লটারি প্রথম ১৯৮৭ সালে চালু হয়েছিল এবং এর নাম দেওয়া হয়েছিল “এনপি-৫ লটারি প্রোগ্রাম”। প্রথম ২ বছরে ৩৬ টি দেশের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে ৫০০০ জন কে ভিসা প্রদান করা হয়েছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে লটারির জন্য ভিসার সংখ্যা ৫০০০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০০০ করা হয়।

১৯৯০ এবং ১৯৯১ সালের দিকে এই গ্রিন কার্ড প্রোগ্রামের নাম রাখা হয় “ওপি -১ প্রোগ্রাম”। সেই সময় ১০০০০ জনকে ভিসা দেওয়া হয়েছিল। পরের ২ বছর এই প্রোগ্রামের নাম আবার পরিবর্তন করা হয়। নতুন মান দেয়া হয় “এএ -১ প্রোগ্রাম”। এবার ৩৭ টি দেশের আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে ৪০,০০০ জনকে ভিসা প্রদান করা হয়। তবে এর মধ্যে ১৬০০০ গ্রিন কার্ড উত্তর আয়ারল্যান্ডের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

এরপর ১৯৯৪ সালে এই গ্রিন কার্ড প্রোগ্রামটি তার বর্তমান পরিচিত সংস্করণে রূপান্তরিত হয়। যে দেশগুলোর প্রচুর অভিবাসী রয়েছে এমন দেশগুলিকে বাদ দিয়ে বাকি সকল দেশের জন্য ৫৫,০০০ ভিসা দেওয়া হয়। প্রতি বছর অযোগ্য দেশগুলির তালিকা পরিবর্তন করা হয়।

২০০৩ সালে এই গ্রিন কার্ড প্রোগ্রামটি অনলাইন আবেদনের ব্যবস্থা করা হয়। ২০০২ সাল পর্যন্ত সমস্ত লটারির আবেদনপত্র আমেরিকার লটারি কর্তৃপক্ষকে মেইলের মাধ্যমে কাগজের ফর্মে পাঠানো হতো। যার ফলে কয়েক মিলিয়ন আবেদনপত্র ম্যানুয়ালি প্রক্রিয়া করতে হতো।

এখন আপনি খুব সহজে ডিভি লটারির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://dvlottery.state.gov এ অনলাইনে আপনার আবেদনপত্র জমা দিতে পারেন।

কেন বাংলাদেশ থেকে ডিভি আবেদন করা যাবে না?

১৯৯৪ সালে নিয়ম করা হয় যে দেশগুলোর প্রচুর অভিবাসী আমেরিকাতে রয়েছে এমন দেশগুলিকে এই গ্রিন কার্ড প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়া হয়। কারন একই দেশের অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ আমেরিকাতে থাকলে তারা একত্রিত হয়ে রাষ্ট্র বা সরকার বিরোধী কোন কাজ বা আন্দলন করতে পারে। যা আমেরিকার সারবিক কোন ক্ষতির কারন হতে পারে। তাই প্রত্যেক দেশের জন্য ৫০০০০ গ্রিন কার্ডের কোঠা চালু করা হয়। যেই দেশ গুলোর কোঠা শেষ হয়ে গিয়েছে তাদেরকে বাদ দিয়ে বাকি সকল দেশের জন্য প্রতি বছর ৫৫০০০ ভিসা দেওয়া হয়।

২০১২ সালে বাংলাদেশের কোঠা শেষ হয়ে যায়। এভাবে বর্তমানে বাংলাদেশ সহ ১৯ টি দেশের নাগরিকরা কোঠা শেষ হয়ে যাবার কারনে ডিবি লটারিতে আবেদন করতে পারবেন না। যদি কখনো আমেরিকান সরকার অভিবাসীদের জন্য আইন সংশোধন করেন তবে হয়ত বাংলাদেশ সহ এই সমস্ত দেশ গুলো থেকেও ডিভি লটারির জন্য আবেদন করা যেতে পারে।
কোঠা শেষ হয়ে যাবার কারনে যে দেশগুলো ডিভি লটারিতে আবেদন করতে পারবে না সেগুল হলঃ

১. বাংলাদেশ,
২. ব্রাজিল,
৩. কানাডা,
৪. চীন (হংকং এসএআর সহ),
৫. কলম্বিয়া,
৬. ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র,
৭. এল সালভাদোর,
৮. গুয়াতেমালা,
৯. হাইতি,
১০. হন্ডুরাস,
১১. ভারত,
১২. জামাইকা,
১৩. মেক্সিকো,
১৪. নাইজেরিয়া,
১৫. পাকিস্তান,
১৬. ফিলিপাইন,
১৭. দক্ষিণ কোরিয়া,
১৮. যুক্তরাজ্য (উত্তর আয়ারল্যান্ড বাদে) এবং এর উপর নির্ভরশীল অঞ্চল এবং
১৯. ভিয়েতনাম।

কোন ২ টি শর্তে বাংলাদেশ থেকে আবেদন করা যাবে?

আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য থেকে জানা যায় যেসব দেশ গত ৫-১০ বছরে ৫০,০০০+ অভিবাসী আমেরিকায় পাঠিয়েছে ডিভি লটারির জন্য সেই সমস্ত দেশের কোঠা শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে তারা ২ টি শর্ত দিয়েছে। এই ২ টি শর্তের মধ্যে যেকোনো একটি যদি আপনার ক্ষেত্রে মিলে যায়, তবে আপনি বাংলাদেশ সহ কোঠা শেষ হয়ে যাওয়া ১৯ টি দেশের মধ্যে যে কোন দেশের নাগরিক হয়েও ডিভি লটারির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাছাড়া কোন ভাবেই আপনার ডিভি লটারির জন্য আবেদন করা সম্ভব না।

শর্ত ২ টি হলঃ

উপরে বর্ণিত বাদ পড়া যে কোন দেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারেন যদি,
১। তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের মধ্যে কেউ কোঠা শেষ হয়নি এমন কোন দেশের একটিতে জন্ম গ্রহন করে থাকেন, তাহলে তার নামে আবেদন করতে পারবে।

২। তাদের পিতা-মাতা মধ্যে কেউ কোঠা শেষ হয়নি এমন কোন দেশের একটিতে জন্ম গ্রহন করে থাকেন অর্থাৎ তারা কোঠা শেষ হয়ে যাওয়া দেশের অস্থায়ী নাগরিক। তাহলে তাদের ছেলে মেয়ে ডিভি লটারির জন্য আবেদন করতে পারবে।

সতর্কতাঃ

উপরের শর্ত ২ টির মধ্যে আপনি যদি কোন একটিও পূরণ করতে না পারেন তবে আপনি কোন ভাবেই ডিভি লটারির মাধ্যমে আমেরিকা যেতে পারবেন না। বর্তমানে ফেসবুক ও ইউটিউব সহ বিভিন্ন মাধ্যমে অনেক মানুষ ডিভি লটারি নিয়ে অনেক বিভ্রান্তিমুলক পোস্ট ও ভিডিও শেয়ার করছে। অনেক এজেন্ট বা দালাল আপনাকে ডিভি লটারির মাধ্যমে আমেরিকা পাঠাবে বলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতে পারে। আপনাকে আমেরিকা পাঠবে বলে বিভিন্ন বাহানায় মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে পারে। আপনাকে এই ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কোন ভাবেই তাদের ফাঁদে পা দেয়া যাবে না। আপনি স্পষ্টভাবে জেনে নিন যে, আপনি, আপনার স্ত্রী, আপনার ও আপনার স্ত্রীর বাবা মা যদি বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে থাকেন তবে কোন ভাবেই ডিভি লটারির মাধ্যমে আপনার আমেরিকা যাওয়া সম্ভব না। যে যাই বলুক বা যাই করুক, কোন ভাবেই সম্ভব না। আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় যদি অভিবাসন আইন পরিবর্তন না করে তবে বাংলাদেশ সহ ১৯ টি দেশের নাগরিক কোন ভাবেই আমেরিকা যেতে পারবে না। তাই সাবধান না হলে বিপদে পরবেন।

শেষ কথাঃ

সব শেষে বলতে চাই বৈধ ভাবে আমেরিকা যাওয়ার জন্য আমেরিকান পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় প্রায় ১৮৫ রকম ভিসার প্রচলন করেছে। তার মধ্যে ডিভি লটারি মাত্র একটি মাধ্যম। আরও ১৮৪ রকম ভিসা আছে যার মাধ্যমে আপনি আমেরিকা যেতে পারবেন। হতাশ না হয়ে একটু জানার চেষ্টা করুন। ডিভি লটারিতে আপনার আমেরিকা যাবার সুযোগ না থাকলেও হতে পারে অন্য কোন ভিসার মাধ্যমে আপনি আপনার আমেরিকা যাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।

এই সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এই পোস্টটি পড়ুনঃ

এই সম্পর্কে আরও কিছু জানতে চাইলে বা আপনার মতামত জানাতে চাইলে আমাদের কমেন্ট করুন।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *