পাসপোর্ট কিভাবে করবেন | কিভাবে আপনি নতুন বাংলাদেশি পাসপোর্ট করবেন

পাসপোর্ট কিভাবে করবেন | কিভাবে আপনি নতুন বাংলাদেশি পাসপোর্ট করবেন

প্রশাসনিক তথ্য

পাসপোর্ট কী তা আমরা সবাই জানি। আপনি যদি দেশ ছাড়তে চান তবে প্রথমে এটি প্রয়োজনীয়। এক কথায়, একটি পাসপোর্ট হল দেশের সরকারের একটি বই যা দেশের নাগরিকদের বিদেশে যাওয়ার আইনী অনুমতি, যেখানে বিভিন্ন দূতাবাসের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ভিসা দেওয়া হয়। কিভাবে আপনি নতুন বাংলাদেশি পাসপোর্ট করবেন? বাংলাদেশ পাসপোর্ট বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি নিয়ে বিদেশ যাবার একটি বই। বাংলাদেশ সরকার নাগরিকদের জন্য কিভাবে আপনি নতুন বাংলাদেশি পাসপোর্ট করবেনতিন ধরণের বাংলাদেশী পাসপোর্ট ইস্যু করে। 

১. আন্তর্জাতিক সাধারণ পাসপোর্ট (সবুজ কভার)

২. অফিসিয়াল পাসপোর্ট (নীল কভার)

৩. কূটনৈতিক পাসপোর্ট (লাল কভার)

বাংলাদেশে পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয়ে অনেকের মনেই নানা রকম বিভ্রান্তি বা ভয় রয়েছে। এতে কোনও ভুল নেই। যা আপনি কখনও করেননি আপনার এমন কোন কিছুতে ভয় থাকতেই পারে । আজ আমি আপনাদের জানাব পাসপোর্ট করতে গিয়ে আমি যে সমস্যা গুলোর মুখোমুখি হয়েছি এবং কীভাবে সেগুলি থেকে মুক্তি পেয়েছি ।

কীভাবে একটি বাংলাদেশি নতুন পাসপোর্ট করবেন?

যারা নতুন পাসপোর্ট করতে চান তাদের প্রক্রিয়াটি পুরানো পাসপোর্টধারীদের থেকে পৃথক। তাদের শুরু থেকেই শুরু করতে হবে। আমি এর প্রতিটি পদক্ষেপ আলোচনা করবো। এই পদক্ষেপগুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করে, আপনি খুব কম সময়ে এবং কম ঝামেলায় একটি পাসপোর্ট করতে সক্ষম হবেন।

***নোট করুন যে আপনি পাসপোর্ট ফর্মটি অনলাইনে এবং অফলাইনে উভয়ই মাধ্যমেই পূরণ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই।

নতুন বাংলাদেশি পাসপোর্ট করতে যা যা লাগবেঃ

  • পাসপোর্ট এর জন্য আবেদনকারীর যোগ্যতা অর্থাৎ বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া,
  • পূরণকৃত ডিআইপি ফর্ম-১ এর ০২ কপি। ৪র্থ পাতায় প্রত্যায়নকারী দিয়ে সাইন করতে হবে,
  • সদ্য তলা পাসপোর্ট সাইজের ০২ কপি ছবি পূরণকৃত ফর্মে আঠা দিয়ে লাগিয়ে সত্যায়িত করতে হবে,
  • জাতীয় পরিচয় পত্র/জন্ম নিবন্ধন সনদ পত্রের সত্যায়িত ০২ কপি,
  • ডাক্তার, ইঙ্গিনিয়ার, ড্রাইভার, এবং অন্যান্য কারিগরি পেসা সমুহের ক্ষেত্রে পেশাগত সনদ পত্রের সত্যায়িত কপি,
  • অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৫ বছরের নিচে) আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পাসপোর্ট সাইজের ০২ কপি ছবি এবং আবেদনকারির পিতা মাতার ০২ কপি রঙ্গিন ছবি (সাইজ ৩০/২৫ মিঃ মিঃ) আঠা দিয়ে লাগিয়ে সত্যায়িত করতে হবে,
  • অফিসিয়াল পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে সরকারি আদেশ (জিও) দাখিল করতে হবে, 
  • অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন বই এর ফটোকপি প্রদান সাপেক্ষে সাধারন ফি তে জরুরী সেবা প্রদান করা হবে, 

বাংলাদেশি নতুন পাসপোর্ট এর জন্য ফি এর পরিমানঃ

  • সাধারন ৩৪৫০/- (তিন হাজার চারশত পঞ্চাশ টাকা মাত্র) ও
  • জরুরী ৬৯০০/- (ছয় হাজার নয়শত টাকা মাত্র)

পাসপোর্ট এর জন্য ব্যাংকে ফি জমা প্রদান প্রসঙ্গেঃ

সোনালি ব্যাংকে অনলাইন করা ছাড়াও নিম্নের ব্যাংক গুলোতে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে টাকা জমা করা যাবে। 

  • ট্রাষ্ট ব্যাংক লিঃ
  • ওয়ান ব্যাংক লিঃ
  • ব্যাংক এশিয়া লিঃ
  • প্রিমিয়ার ব্যাংক লিঃ
  • ঢাকা ব্যাংক লিঃ

পদক্ষেপ ১ঃ বাংলাদেশি পাসপোর্ট এর জন্য ফি জমা দেয়া।

পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হল অর্থ জমা করা। এটি আপনার পাসপোর্ট প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। সরকারি সোনালী ব্যাংক ছাড়াও এই ৫ টি ব্যাংকে পাসপোর্ট এর জন্য টাকা জমা দেওয়া যায়।

ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ও ওয়ান ব্যাংক।

দয়া করে মনে রাখবেন, যে এলাকার পাসপোর্ট অফিসে আপনি কাজ করবেন সেই এলাকার ব্যাংক এর শাখায় অর্থ জমা করা ভাল। ব্যাংকে যান এবং যে কোনও কাউন্টারে জানান যে আপনি পাসপোর্ট ফি জমা দিতে চান। এরপরে তারা আপনাকে পাসপোর্ট ফি প্রদানের জন্য একটি বিশেষ ভাউচার দিয়ে সহায়তা করবে। জাতীয় পরিচয় পত্রটি সাথে নিয়ে যাবেন, অনেক সময় কোন কর্মকর্তা এটি দেখতে চাইতে পারেন। সোনালী ব্যাংকে অন্যান্য ব্যাংকের থেকে ভিড় বেশি। সুতরাং আপনার পাসপোর্ট অফিসের পাঁশে উল্লেখ্য অন্যান্য ব্যাংক গুলোর কোন শাখা থাকলে সেখানে গিয়ে ভিড় ছাড়া কাজ করে আসতে পারবেন। তবে, পাসপোর্ট অফিসের এলাকার পাঁশে অন্য ব্যাংকের শাখা না থাকে, তবে অবশ্যই আপনি সেখানে সোনালী ব্যাংক পাবেন।

পাসপোর্ট প্রাপ্তির সময় প্রসঙ্গেঃ

আপনি যদি পাসপোর্টের জন্য তাড়াহুড়া না করেন তবে আপনি ঠিক সময়ে একটি সাধারণ পাসপোর্ট পাবেন। সাধারণ পাসপোর্ট পেতে ২১ দিন সময় লাগে। এই ক্ষেত্রে, যদিও আমরা ২১ দিনের কথা বলি, বাস্তবে এটি অনেক ক্ষেত্রে পাওয়া যায় দেরিতে। সুতরাং এটি দেড় মাস সময় লাগবে, এইরকম সময় ধরে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আপনার যদি জরুরি প্রয়োজন হয় তবে জরুরি ফি দিয়ে জরুরি পাসপোর্ট পেতে পারেন। এই জরুরী পাসপোর্ট অবশ্যই ৭ দিনের মধ্যে পাওয়া উচিত। তবে, আপনাকে যদি ৭ দিনের কথা বলে তবে ধরে নিতে হবে এটি পেতে কমপক্ষে ১৫ দিন লাগতে পারে।

সাধারণ বা জরুরী পাসপোর্ট তৈরির জন্য নির্ধারিত ফি এর থেকে কোনও বেশি ফি নেই। সাবধানতার সাথে আপনার পাসপোর্ট ফি রসিদ রাখুন। কারণ আপনি যদি এটি হারিয়ে ফেলেন তবে আপনাকে পুনরায় টাকা জমা দিতে হবে।

পদক্ষেপ ২ঃ বাংলাদেশি পাসপোর্ট ফর্মটি ডাউনলোড করুন।

পাসপোর্ট ফর্মটির জন্য এই ঠিকানায় যান http://www.passport.gov.bd/ এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট ফর্মটি ডাউনলোড করুন।

আপনি যদি চান তবে এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

Pass port application form

আপনি যদি কোন অফিস বা দোকান থেকে ফর্ম নেন তবে অবশ্যই একাধিক কপি নেবেন। কারণ সামান্য ভুল হলে বা কোন তথ্য বাদ পড়ার কারণে ফর্মটি বাতিল হয়ে যাবে। ফর্ম পূরণ করার সময় ভুল হতে পারে, এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং, ঝামেলা এড়াতে একাধিক কপি নিয়ে নিন। 

পদক্ষেপ ৩ঃ  বাংলাদেশি পাসপোর্ট ফর্ম পূরণ করুন।

এই পর্যায়ে আপনি পাসপোর্ট এর জন্য ফর্ম পূরণ করবেন। আমি ইতিমধ্যে আপনাকে বলেছি যে আপনার একাধিক কপি রাখা উচিত যাতে কোনও ভুল হলে সংশোধন করা যায় সহজে।

এখন ফর্মটি পূরণ করা শুরু করুন। আপনার আইডি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সহ সাবধানতার সাথে ফর্মটি পূরণ করুন বানানের ভুল সম্পর্কে সতর্ক থাকুন এবং সমস্ত সঠিক তথ্য সরবরাহ করুন। যেই জায়গাগুলতে আপনাকে যেখানেই স্বাক্ষর করতে হবে সেখানে স্বাক্ষর করবেন, আপনার সমস্ত স্বাক্ষর অবশ্যই একই এবং একই ভাষায় হতে হবে। কোথাও ইংলিশ বা কোথাও বাংলায় স্বাক্ষর করলে সমস্যা হবে।

পদক্ষেপ ৪ঃ  কীভাবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ফর্মের সাথে ফটো এবং রসিদ সংযুক্ত করা যায়।

ফর্মটি পূরণ হয়ে গেলে, যেখানে ছবি লাগাতে বলা হয়েছে সেখানে ছবি লাগিয়ে দিন এবং ডানদিকে ব্যাংক জমার রশিদটিও সংযুক্ত করুন। 

পদক্ষেপ ৫ঃ বাংলাদেশি পাসপোর্ট ফর্মের ছবি সত্যায়িত করা এবং ফর্ম প্রত্যায়ন করা।

টাকা জমা দেবার রসিদ ফর্মে লাগানোর পর এর একটি সত্যায়িত কপি আপনার প্রয়োজন হবে। পাসপোর্ট ফর্মের একটি অংশ রয়েছে যেখানে প্রত্যয়নকারী তার তথ্য দিয়ে আপনাকে প্রত্যায়ন করবে। এটি যে কোন একজন প্রথম শ্রেণির সরকারী অফিসারের দ্বারা করা যেতে পারে যিনি আপনাকে চেনেন। সেই প্রত্যয়নকারী ব্যক্তি আপনার আইডির কার্ডের ফটোকপিও সত্যায়িত করে দেবেন। ফর্মের প্রত্যয়ন এর অংশে তিনি তার নাম, মোবাইল নং এবং অফিসিয়াল সিল দিবেন।

প্রথম শ্রেণির কোন সরকারী অফিসার যদি আপনার পরিচিত না থাকে তবে সমস্যা নেই। আপনি যে কোন নোটারি দিয়ে কাজটি করতে পারেন। পাসপোর্ট অফিস এবং সরকারী আদালত সাধারণত কাছাকাছি তারা থাকে। আপনি তাদের দিয়েও কাজটি করাতে পারবেন। 

পদক্ষেপ ৬ঃ বাংলাদেশি পাসপোর্টের জন্য ফর্ম জমা দিন।

ফর্ম পূরণ ও সত্যায়িত করার কাজ শেষ হয়ে গেলে আপনার বাংলাদেশী পাসপোর্ট ফর্ম জমা দিতে হবে। এটি জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই আপনাকে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে জমা দিতে হবে। 

ফর্মটি জমা দেওয়ার সময় আপনার যা কিছু চেক করা দরকার:

  • সত্যায়িত ছবি এবং রসিদ সহ সত্যায়িত সম্পূর্ণ পাসপোর্ট ফর্ম (ফর্ম ডিআইপি -১) ২ কপি,
  • জাতীয় পরিচয় পত্র এর ২ টি ফটোকপি,
  •  উপজেলা বা পৌরসভা চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিক সনদপত্রের সত্যায়িত ২ কপি, 

জমা নেওয়ার পর প্রথমে ফর্মটি নির্দিষ্ট একটি ঘরে পাঠানো হবে। সেখানে আপনার ফর্মের তথ্য কম্পিউটার সফ্টওয়্যারটিতেও নেওয়া হবে। অপেক্ষা করতে  হতে পারে। আপনার তথ্যগুলো সফ্টওয়্যারটিতে প্রবেশ করানোর পরে, ফর্মটিতে সিল দিয়ে আপনাকে অন্য একটি ঘরে ফর্ম সহ পাঠানো হবে। 

পদক্ষেপ ৭ঃ  বাংলাদেশি পাসপোর্টে ফটো এবং আঙুলের ছাপ।

পাশের ঘরে প্রবেশের জন্য আপনাকে লাইন ধরেতে হবে। সেখানে ফর্মের তথ্যগুলি সফ্টওয়্যারটিতে থাকা তথ্যের সাথে পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। তারপরে আপনার আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। উভয় হাতের মোট ৪ টি আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। তারপরে আপনাকে ডিজিটাল স্ক্রিনে সাইন ইন করতে হবে। আপনি ফর্মটি এখানে স্বাক্ষর করবেন। এরপর তারা আপনার ছবি তুলবেন। 

সম্ভব হলে একটি সাদা শার্ট পড়বেন। আপনার ছবিটি কোন স্ক্রিন বা সাদা বোর্ডের সামনে নেওয়া হবে। তাই সাদা শার্ট পড়তে ভুলবেন না। অনেকে টি-শার্ট বা পোলো শার্ট পরে এবং ফটোতে যান এটা ঠিক না। একটি মানের ছবির জন্য, আপনার একটি শার্ট পরা উচিত।

পদক্ষেপ ৮ঃ পাসপোর্ট টোকেন সংগ্রহ এবং যাচাইকরণ।

তারপরে আপনাকে একটি টোকেন দেওয়া হবে। যেখানে আপনার তথ্য, আপনার পাসপোর্ট প্রদানের তারিখ এবং আরও অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত করা থাকে। এই ঘর থেকে বেরোনোর ​​আগে অবশ্যই কার্ডটি ভাল করে দেখুন। কারণ আপনার পাসপোর্টের সমস্ত তথ্য এই টোকনে দেওয়া আছে। সুতরাং যদি আপনার কোন তথ্য ভুল মনে হয় তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট করুন। তারপরে তারা প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নিতে পারে।

মূলত, আপনার বাংলাদেশী পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া শেষ। টোকেনটি যত্ন সহ সংরক্ষণ করা উচিত। কারণ আপনার অবশ্যই পাসপোর্ট সরবরাহের দিনে এই টোকেনটি থাকতে হবে। পাসপোর্টটি যখন ঢাকায় থেকে আসে এবং এটি আবার আপনার এলাকার অফিসে পৌঁছায় তখন আপনার মোবাইল ফোন নম্বরটিতে একটি মেসেজ পাঠানো হবে। সেখান থেকে আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশী পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণত, পাসপোর্ট কার্ডে উল্লিখিত তারিখে আঞ্চলিক অফিসে পৌঁছায় না। অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা দেরি হয়। সুতরাং যেই তারিখে আপনার পাসপোর্ট আসার কথা তার আগে আপনি যদি খোঁজ নতে পারেন তবে এটি আরও ভাল হয়।

আপনি যদি নিজের পাসপোর্ট এর আপডেট জানতে চান তবে আপনি দুটি উপায়ে করতে পারেন, 

  • মোবাইল এসএমএস
    • এসএমএস সেবা পেতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন MRP<SPACE>EID NO এবং 6969 নং এ পাঠিয়ে দিন।
  • অনলাইনে খোঁজ করা।
    • এছাড়া www.passport.gov.bd এই ওয়েবসাইটে গিয়ে EID এবং জন্মতারিখ প্রদান করে পাসপোর্টের বর্তমান স্ট্যাটাস জানা যাবে।

পাসপোর্টটি প্রস্তুত হয়ে গেলে বা আপনার আবেদনে কোন সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে এসএমএসের মাধ্যমে আপনাকে জানানো হবে।

যাইহোক, অনেক ক্ষেত্রে, এই মাধ্যমগুলি আপনাকে সঠিক তথ্য দিতে পারে না। কাজের বিলম্ব মূলত পুলিশ যাচাইয়ের সমস্যার কারণে বা পাসপোর্ট এবং পুলিশ এই দুটি বিভাগের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাজটি করা হয়। সুতরাং যদি আপনার পাসপোর্টের কোন খবর না পাওয়া যায় তবে দয়া করে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। অথবা আপনি নিজ নিজ থানা বা পাসপোর্ট অফিসে অনুসন্ধান করতে পারেন।

উপসংহার:

কিভাবে আপনি নতুন বাংলাদেশি পাসপোর্ট করবেন? পাসপোর্ট তৈরিতে বিশেষজ্ঞ হতে হবে এমন কিছুই নেই। তবে বাংলাদেশ পাসপোর্ট ফর্ম পূরণ সহ পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভুলভাবে শেষ করা দরকার। তা না হলে, আপনি কোথাও আটকে যাবেন। সুতরাং সম্ভবত পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই শুরু করতে হবে। অনেকেই আছেন যারা বাংলাদেশ পাসপোর্ট ফর্মটি পূরণ করতে পারেন না। অনেকেই আছেন যারা কাগজ পত্রের সমস্যাগুলি বোঝেন না। আবার এটি দেখা যায় যে আপনি পাসপোর্ট অফিসে খুব কম সময় গিয়েছেন। দেখেছেন যে খুব দেরি হবে বা সমস্যা হবে। এই ক্ষেত্রে, আপনি দেখতে পাবেন যে অনেক লোক পাসপোর্ট অফিসে “সাহায্য” করতে যান। খাঁটি বাংলাতে তাদের বলা হয় “দালাল”। তারা সবসময় খারাপ হয় না। প্রকৃতপক্ষে, আপনি যদি ইচ্ছে করেন তবে কোনও ঝামেলা ছাড়াই তাদের দিয়ে অনেক কাজ করতে পারেন। বিনিময়ে আপনাকে তাদের কিছু টাকা দিতে হবে। 

সুতরাং আপনি যদি নিজে এই কাজগুলো করতে না চান বা পারেন তবে আপনি তাদের সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, তাদের সাথে পাসপোর্ট অফিসের লোকজন থাকেন। অনেক সময় দেখা যায় যে একটি কাজ হতে অনেক সময় লাগবে বা এমনকি প্রত্যাখ্যানও হতে পারে। যদি তাদের মাধ্যমে একই উপস্থাপন করা হয় তবে দেখা যাবে যে কাজটি খুব দ্রুত এবং সহজেই সমাধান হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি কিছুটা অনৈতিক তবে বাস্তবে এটি কার্যকর হয়। তবে আপনি কাজ শুরু করার আগে কাজের পরিমাণ অনুসারে আপনাকে অর্থ প্রদান করতে হবে।

আপনি যদি সাবধানে এবং সঠিক উপায়ে কাজ করেন তবে আপনি সমস্ত কাজ শেষ করে একদিনের মধ্যে একটি টোকেন নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন। যাইহোক, দালালদের সাথে কাজ করার আগে, আপনাকে এটি পুরোপুরি পরীক্ষা করা দরকার। তাদের মধ্যে অনেকেই অযোগ্য বা অসাধু হতে পারে।

অবশেষে, আমি আশা করি আপনি আপনার বাংলাদেশী পাসপোর্টটি নিরাপদে, নির্ভুল এবং দ্রুত শেষ করে হাতে পেয়ে যান। আপনার আকাশ পথের যাত্রা শুভ হোক এই কামনা করছি।

কিভাবে পাসপোর্ট নবায়ন করতা হয় জানতে এখানে ক্লিক করুন  কিভাবে পাসপোর্ট নবায়ন করতে হয়

কিভাবে ভারতীয় ভিসা এর জন্য আবেদন করতে হয়  

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *