করোনা ভাইরাস ও এর ভ্যারিয়েন্ট

করোনা ভাইরাস ও এর ভ্যারিয়েন্ট

অন্যান্য

করোনা ভাইরাস ও এর ভ্যারিয়েন্ট । করোনা ভাইরাস রোগ বা কোভিড -১৯ একটি সংক্রামক রোগ, যা ২০১৯ সালের শেষের দিকে আবিষ্কৃত করোনা ভাইরাস দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে।

বেশিরভাগ লোকেরা যারা এই করোনা ভাইরাস বা কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত হন, তাদের মধ্যে হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গ দেখা যায়। অনেকে বিশেষ কোন চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে যান।

করোনা ভাইরাস কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে?

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা শ্বাস ছাড়লে মূলত ভাইরাস ছড়িয়ে যায়। অধিক পরিমানে করোনা সংক্রামিত হওয়ার এটা একটা কারন। এই ভাইরাস খুব ভারী এবং দ্রুত মেঝে বা মাটির উপরে পড়ে যায়। বাতাসে তেমন একটা ভেসে থাকতে পারে না।

আপনি যদি কোন কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি চলে আসেন এবং তার কাশি, হাঁচি বা শ্বাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোন জায়গায় যদি আপনার হাত পরে তাহলে আপনার হাতে এই ভাইরাস লেগে যাবে। তারপরে আপনি আপনার হাত দিয়ে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করলে তার মাধ্যমে ভাইরাস আপনার শরীরে প্রবেশ করবে।

করোনা ভাইরাস ও এর ভ্যারিয়েন্ট

যে কোনো ভাইরাস ক্রমাগত নিজেই নিজের ভেতরে পরিবর্তন ঘটাতে থাকে অর্থাৎ নিজেকে বদলাতে থাকে, এবং তার ফলে একই ভাইরাসের নানারকম ধরন তৈরি হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া নিয়ে তেমন চিন্তার কিছু থাকে না। কারণ নতুন সৃষ্টি হওয়া ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট মূল ভাইরাসের চেয়ে দুর্বল এবং কম ক্ষতিকর হয়।

আবার কিছু কিছু ভ্যারিয়েন্ট আবার অনেক বেশি ছোঁয়াচে হয়ে ওঠে। যার ফলে টিকা দিয়ে একে দুর্বল করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, যার বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে বি.১.৬১৭ বা ডেল্টা প্রথম ভারতে শনাক্ত হয় ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে।

এই পর্যন্ত আবিষ্কৃত করোনা ভাইরাসের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টঃ

এই পর্যন্ত আমরা করোনা ভাইরাসের অনেকগুলো ভ্যারিয়েন্ট দেখেছি। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের ৫টি উল্লেখযোগ্য ভ্যারিয়েন্ট রয়েছেঃ

১. বি .১.১.৭ (আলফা) করোনা ভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্টটি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি যুক্তরাজ্যেও সনাক্ত করা হয়েছিল।

২. বি .৩.৩৫১ (বিটা) করোনা ভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্টটি দক্ষিণ আফ্রিকাতে এটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে সনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ২০২১ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে সনাক্ত করা হয়।

৩. পি.১ (গামা) করোনা ভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্টটি জাপানের বিমানবন্দরে নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের সময় পরীক্ষামূলকভাবে ব্রাজিলের ভ্রমণকারীদের মধ্যে প্রথম দিকে সনাক্ত করা হয়েছিল। যা ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সনাক্ত করা হয়।

৪. বি.১.৪২৭ এবং বি.১.৪২৯ (অ্যাপসিলন) করোনা ভাইরাসের এই দুটি ভ্যারিয়েন্ট ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম সনাক্ত করা হয়েছিল।

৫. বি.১.৬১৭.২ (ডেল্টা) করোনা ভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্টটি ২০২০ সালের মার্চ মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সনাক্ত করা হয়েছিল। এটি এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতে সনাক্ত করা হয়।

করোনা ভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্টগুলি এর অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টগুলির তুলনায় আরও সহজে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। যার ফলে করোনা ভাইরাস বা COVID-19 এর আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যাচ্ছে। যা স্বাস্থ্য সেবা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলিতে আরও চাপ সৃষ্টি করছে। এভাবে চলতে থাকলে আরও বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে এবং সম্ভাবনার থেকে আরও বেশি লোকের মৃত্যু হতে পারে।

করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট “ডেল্টা”:

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এটি প্রথম ভারতে শনাক্ত করা হয়েছিল এবং এরপর থেকে যুক্তরাজ্যে এখন ৯০ শতাংশ সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ধরণ।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট আইইডিসিআর জানায় যে, দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি চিহ্নিত করা গেছে।

ঢাকায় শনাক্ত করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর ৬৮ শতাংশ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা সংস্থা আইসিডিডিআরবি। সম্প্রতি করা গবেষণায় তারা এমনটি দেখতে পেয়েছে বলে আইসিডিডিআরবি।

আইইডিসিআর জুন মাসের ৪ তারিখে জানায়, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের হার বাড়তে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, জুনের চার তারিখের আগ পর্যন্ত সংক্রমণ শতাংশের নিচে ছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ১৭ই জুন সকাল পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

ইতিমধ্যে আমাদের বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার ১৫টি জেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধীরে ধীরে বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মনে করেন বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পেছনে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের ভূমিকা রয়েছে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *